আইজ্যাক নিউটনের জন্মই হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের আগে। অর্থাৎ একজন স্বাভাবিক শিশু মাতৃগর্ভে যে পরিমাণ সময় থাকার পড় ভূমিষ্ট হয় তার অনেক আগেই।
স্বভাবতই জন্মের পড় থেকেই তিনি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। এমন দুর্বল একটি শিশুর ভূমিষ্ট হওয়ার তিনমাসের মধ্যেই নিউটনের বাবা মারা যান।
পিতার দেহ ত্যাগের মাত্র তিন বছর পড়েই, নিউটনের মা আবার একটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সৎ বাবার কাছে ঠাই হয়নি শিশু নিউটনের। দুর্বল নিউটন তার দিদার কাছে বড় হতে থাকে। ভূমিষ্ট হওয়ার মাত্র তিন মাস পড়েই তিনি বাবাকে হারিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু মাত্র তিন বছর পড়েই, মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেন তিনি।
যখন নিউটনের একটু বোঝার ক্ষমতা হল, তখন থেকেই তার মা এবং তার সৎ বাবার প্রতি একটি বিরূপ মনোভাব তার মধ্যে জন্ম হয়।
পিতা-মাতার আদর আর মায়ের স্নেহ-মমতা ছাড়া বেড়ে উঠা, একজন শিশুর মধ্যে এরূপ মনোভাব জন্ম নেওয়াটাই স্বাভাবিক।
এরপর তাকে একটি স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। সেখানেই চলতে থাকে তার পড়াশোনা। নিউটনের বয়স যখন পনেরো বছর, তখনই তার সৎ পিতার মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পড়, নিউটনের মা, পুনরায় নিউটনের দিদার বাড়িতে ফিরে আসেন। ফিরে আসার পড়েই, তিনি নিউটনের পড়াশোনা বন্ধ করে দেন, এবং তাকে খামারে কাজ করতে যেতে বলেন, যাতে করে কিছু অর্থ হাঁতে আসে!
কিন্তু নিউটন পড়াশোনা ছেড়ে খামারে কাজ করতে মোটেই ইচ্ছুক নয়। এমন পরিস্থিতিতে নিউটনের রক্ষাকর্তা হিসেবে নেমে আসেন একজন শিক্ষক। তিনি নিউটনের পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক দেখে, পুনরায় নিউটনের শ্রেণীকক্ষে ফেরার ব্যবস্থা করেন।
এত সংঘর্ষময় জীবনে থাকার পড়েও, তার জীবনে প্রেম এসেছিল। এক মেয়ের সাথে তার প্রেম হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সেই প্রেম বিবাহে পরিণতি পায়।
যখন তারা বিবাহ করেছিলেন, তখন নিউটনের বয়স ছিল মাত্র উনিশ বছর। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেই মেয়েটি নিউটনকে ছেড়ে চলে যান।
যাকে তিনি জীবন সঙ্গী হিসেবে পাশে পেয়েছিলেন, সেও তাকে ছেড়ে চলে গেল। এরপর তিনি আবার একা হয়ে গেলেন। এরপর নিউটন সারাজীবন অবিবাহিত ছিলেন।
এভাবেই দুর্ভাগ্য নিয়ে তার পথ চলা শুরু হয়েছিল। কঠোর মনোবল নিয়েই আবার পড়াশোনায় মননিবেশ করলেন। রক্তে যার সংগ্রাম আছে, জীবনযুদ্ধে সে হারবে কিভাবে? ভাবছেন, তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত বিচক্ষন ছিলেন?
উঁহু তা নয়। পড়াশোনায় তিনি ছিলেন মাঝারি ধরণের। তবে তার মধ্যে ‘বদলা’ এই শব্দটার প্রতিফলন প্রচুর পরিমাণে দেখা যেত। তবে তার বদলা নেওয়া আর আমাদের বদলা নেওয়ার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।
আমরা বদলা নেওয়া বলতে বুঝি, লড়াই করা। কিন্তু নিউটনের ক্ষেত্রে বদলা নেওয়ার অর্থ ছিল, নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে হাসিল করা। আর এই প্রচেষ্টাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন।
একবার স্কুলের এক ছাত্র তাকে নানান ভাবে অপমান করে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে, পড়ের বছর মাঝারি মেধাবী ছাত্র নিউটন হয়ে গেলেন ক্লাসের সেরা ছাত্র।
কলেজ জীবনে তিনি কলেজের ফিস এবং নিজের খরচ চালানোর জন্য কলেজের একজন কর্মচারী হিসেবেও কাজ করতেন। সেই সময় বিজ্ঞান ছিল অ্যারিস্টটলের ধারণা কেন্দ্রিক।
কিন্তু নিউটন চাইছিলেন, এই ধারণাকে আরও উন্নত এবং আধুনিক করতে। তিনি অ্যারিস্টটলের ধারনার মধ্যে কিছু একটা অনুপস্থিতি অনুভব করছিলেন। ১৬৬৪ সালে নিজ প্রতিভার কারণে কলেজ তাকে স্কলারশিপের বন্দোবস্ত করে দেয়।
এখান থেকেই তার ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। এরপর শুরু হল বিস্তর অধ্যয়ন ও নতুনকে জানার প্রচেষ্টা। আর এর পড়ের গল্প তা আমাদের সবারই জানা।
মাধ্যাকর্ষণ থেকে শুরু করে, উড়োজাহাজ যে শর্তের উপর আজ আকাশে উড়ছে, সবই নিউনের গবেষণার ফলপ্রসূত।
You must be logged in to post a comment.